কালীগঞ্জে ইউএনও’র হস্তক্ষেপে নিয়োগ পরীক্ষা স্থগিত, গভর্নিংবডির সভাপতির বিরুদ্ধে অনিয়মের অভিযোগ

119
অনিয়মের অভিযোগ

নিউজ ডেস্কঃ গাজীপুরের কালীগঞ্জে ফুলদী জনতা উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক পদে নিয়োগ পরীক্ষা স্থগিত করেছে কালীগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) মো. আজিজুর রহমান। বিধি মোতাবেক নিয়োগ প্রক্রিয়া না হওয়ায় অনিয়মের অভিযোগ -এ স্থগিত করা হয়েছে নিয়োগ পরিক্ষা। গত বৃহস্পতিবার (২১ সেপ্টেম্বর) কালীগঞ্জ আর আর এন পাইলট সরকারী উচ্চ বিদ্যালয়ে নিয়োগ পরীক্ষা হওয়ার কথা ছিল। তবে যথা নিয়মে নিরাপত্তা কর্মী পদে নিয়োগ পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়।

 

তথ্যানুসন্ধানে জানা যায়, বেসরকারী স্কুল ও কলেজে নিয়োগ বিধি মোতাবেক স্থানীয় ও জাতীয় পত্রিকায় নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি ছাপানোর বিধান থাকলেও বিষয়টি গোপন রাখা রাখা হয়। অনিয়মের বিষয়টি কিছু স্থানীয় গণমাধ্যমকর্মীদের দৃষ্টিগোচর হলে উপজেলা নির্বাহী অফিসারকে জানানো হয়। নিয়োগ প্রক্রিয়ায় অনিয়মের কারনে উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) মো. আজিজুর রহমান প্রধান শিক্ষক পদে নিয়োগ পরিক্ষা স্থগিত করেন।

 

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক প্রধান শিক্ষক পদে আবেদন করতে না পেরে এক প্রার্থী বলেন, আমি জনতা উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক পদে একজন প্রার্থী ছিলাম। পদটি শুন্য হওয়ার পর থেকেই নানাভাবে স্কুল কর্তৃপক্ষের সাথে নিয়মিত যোগাযোগ করে আসছি। কখন, কবে, কোন পত্রিকায় নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি ছাপানো হবে সেই আশায় ছিলাম। তবে নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি পত্রিকায় ছাপানো হয়েছে কি না তা জানতে পারি নাই। অত্র স্কুলের গভর্নিংবডির সভাপতি মো. আল আমিন খানের সাথে একাধিকবার যোগাযোগ করা হলে তিনি স্কুলের প্রতিষ্ঠাকালীন সভাপতির ছেলে ও বক্তারপুর ইউনিয়ন আওয়ামীলীগের সভাপতি রফিকুল ইসলাম খানের সাথে যোগাযোগ করতে বলেন। নিয়োগের বিষয়টি না কি তিনি দেখছেন। আমাকে বিভিন্নভাবে তালবাহানা করে আর এই পদে আবেদন করার কোন সুযোগই দেওয়া হয়নি।

 

নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি না পাওয়ার কারনে আবেদন করতে পারেনি আব্দুর রাজ্জাক নামে আরেক প্রার্থী। তিনি কালিয়াকৈর উপজেলার ঢোল সমুদ্র বালিকা বিদ্যানিকেতনে শিক্ষকতা করছেন। তিনি প্রতিবেদককে বলেন, জনতা উচ্চ বিদ্যালয়ে প্রধান শিক্ষকের পদ শূন্য হয়েছে জানতে পেরেছিলাম। কিন্তু কোন পত্রিকায় নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি দেয়া হয়েছে তা জানতে পারেনি। যেহেতু নিয়োগ পরীক্ষা স্থগিত হয়েছে তাই সামনে আবেদন করতে পারব বলে আশা করছি।

 

জানা যায়, মাত্র চার জন আবেদনকারীকে নিয়ে নিয়োগ পরীক্ষার সবকিছু চুড়ান্ত করা ছিল। ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক ফরিদুল আলমকে প্রধান শিক্ষক হিসেবে নিয়োগ দিতেই এত তালবাহানা। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক বিদ্যালয়ের একাধিক শিক্ষক এসব তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

 

নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি, পরিক্ষা স্থগিত সংক্রান্ত বিষয়ে জানতে চাইলে জনতা উচ্চ বিদ্যালয়ের গভর্নিংবডির সভাপতি আল আমিন খান প্রতিবেদককে মুঠো ফোনে জানান, পত্রিকায় বিজ্ঞপ্তির ব্যাপারে ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক ফরিদুল আলম ভাল বলতে পারবে। শিক্ষক নিয়োগে অর্থ লেনদেনের ব্যাপারে জানতে চাইলে তিনি কৌশলে বিষয়টি এড়িয়ে যায়। তিনি প্রশ্নের জবাব না দিয়ে একাধিক বার চা খাওয়ার প্রস্তাব করেন।

 

কালীগঞ্জ উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার নুর-ই জান্নাত মুঠো ফোনে প্রতিবেদককে জানান, প্রধান শিক্ষক পদে চার জন প্রার্থীর আবেদন জমা হয়। কাগজ পত্র জটিলতার কারনে বাছাইয়ে দু’জনকে আগেই বাদ দেয়া হয়। আবেদন কারীর সংখা কম থাকায় পরিক্ষা স্থগিত করা হয়।

 

এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) মো. আজিজুর রহমান প্রতিবেদককে জানান, আমি উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসারের সাথে আলাপ করে জানতে পেরেছি উক্ত পদের জন্য একাধিক প্রার্থী নেই। তাছাড়া পত্রিকায় বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের ব্যাপারে কিছু অনিয়মের অভিযোগ থাকায় নিয়োগ পরিক্ষা স্থগিত করা হয়েছে।

 

উল্লেখ্যে যে, চলতি বছরের ২৯ জুন গভর্নিংবডির সভাপতি আল আমিন খান স্কুলে চাকুরী দেয়ার নামে ফুলদী গ্রামের মহসিন নামে এক ব্যক্তির তিন লক্ষ বিশ হাজার টাকা লেনদেনের অডিও ক্লিপ ভাইরাল হয় । যা সব মহলে তোলপাড় সৃষ্টি হয়। চলতি বছরের ১২ মার্চ প্রধান শিক্ষক হিসেবে মো. আবদুস সোবহান সর্বশেষ অফিস করেন। তখন থেকে পদটি শুন্য রয়েছে।

Related Articles:
কালীগঞ্জে কাউন্সিলরের নেতৃত্বে যুবককে হত্যার চেষ্টা, মামলা নিতে গড়িমসি